সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

১১ কার্তিক, ১৪৩৩◆১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
logo
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

জাতীয়

বেতনহীন পাঠদান, এমপিওর অপেক্ষা: ৬ষ্ঠ-৭ম গণবিজ্ঞপ্তির কারিগরি শিক্ষকদের জট খুলছে কবে?

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
১১ জুন, ২০২৬ এ ৬:০৭ PM
বেতনহীন পাঠদান, এমপিওর অপেক্ষা: ৬ষ্ঠ-৭ম গণবিজ্ঞপ্তির কারিগরি শিক্ষকদের জট খুলছে কবে?

বেতনহীন পাঠদান, এমপিওর অপেক্ষা: ৬ষ্ঠ-৭ম গণবিজ্ঞপ্তির কারিগরি শিক্ষকদের জট খুলছে কবে?

“

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন কারিগরি স্কুল-কলেজে যোগদান করলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ৬ষ্ঠ, ৬ষ্ঠ রি-সুপারিশ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত একদল শিক্ষক। তাঁদের দাবি, কেউ প্রায় ১০ মাস, আবার কেউ ৪ থেকে ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা ছাড়াই নিয়মিত পাঠদান ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করছেন।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন কারিগরি স্কুল-কলেজে যোগদান করলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ৬ষ্ঠ, ৬ষ্ঠ রি-সুপারিশ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত একদল শিক্ষক। তাঁদের দাবি, কেউ প্রায় ১০ মাস, আবার কেউ ৪ থেকে ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা ছাড়াই নিয়মিত পাঠদান ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন অনেক শিক্ষক এমপিও সুবিধা পেলেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একটি অংশ এখনো এমপিও জটিলতায় আটকে আছেন। ফলে দীর্ঘদিন বেতন ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক সংকট ও মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

৬ষ্ঠ, রি-সুপারিশ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির হিসাব

জানা গেছে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক একই বছরের আগস্ট মাসে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি স্কুল-কলেজে যোগদান করেন। তাঁদের মধ্যে শতাধিক শিক্ষক এখনো এমপিওভুক্ত হননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ রি-সুপারিশের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ শিক্ষকের মধ্যে শতাধিক শিক্ষক কারিগরি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। অন্যদিকে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি এনটিআরসিএর ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাবি, ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে এক হাজারের বেশি শিক্ষক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন বিভিন্ন স্কুল-কলেজে যোগদান করেন।

শিক্ষকদের দাবি, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি, ৬ষ্ঠ রি-সুপারিশ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে সারাদেশের প্রায় ১ হাজার ৭৬টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষক এখনো এমপিওভুক্ত হননি। ফলে তাঁরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তাঁদের কেউ কেউ প্রায় ১০ মাস, আবার কেউ ৪ থেকে ৬ মাস ধরে বেতনহীন অবস্থায় পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেলেও কারিগরি শিক্ষকদের একটি অংশ এখনো অনলাইন এমপিও প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেননি। এ কারণে তাঁদের ইনডেক্স নম্বর ও এমপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সচিব বরাবর বৈষম্য দূরীকরণের আবেদন

গত ১১ মে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর একটি আবেদন করেন ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাওয়া কারিগরি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা।

আবেদনে শিক্ষকরা বলেন, “কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে বৈষম্য দূরীকরণ ও দ্রুত বেতন প্রদানের দাবি জানাই। আমরা ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কারিগরি শিক্ষকবৃন্দ গত ৩-৪ মাস ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

আবেদনে আরও বলা হয়, “কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে আমাদের এমপিওভুক্তি আটকে আছে, যেখানে মাউশি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্তরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। এই বৈষম্য আমাদের পেশাগত জীবনে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। এমপিওভুক্তির জটিলতা নিরসন করে বকেয়াসহ বেতন নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

বেতন ছাড়া দায়িত্ব, ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষকরা

শিক্ষকরা জানান, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তাঁরা যথাযথ নিয়মে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছেন এবং নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাসের পর মাস বেতন ছাড়া চাকরি করতে গিয়ে তাঁদের অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবার পরিচালনা, বাসাভাড়া, যাতায়াত, সন্তানের পড়াশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে তাঁরা এখন চরম সংকটে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষক দৈনিক শিল্পবাংলাকে বলেন, “আমরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি, হাজিরা দিচ্ছি, প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু এমপিও না হওয়ায় কোনো বেতন পাচ্ছি না। অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্য অধিদপ্তরের শিক্ষকরা বেতন পেলেও আমরা কেন পিছিয়ে থাকব?”

আরেক শিক্ষক বলেন, “৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে যোগদান করা অনেক শিক্ষক প্রায় ১০ মাস পার করলেও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। আর ৬ষ্ঠ রি-সুপারিশ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির শিক্ষকরা প্রায় ৪ থেকে ৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। আমাদের ইনডেক্স নম্বর ও এমপিও প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানাই।”

শিক্ষকদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ও দক্ষ জনবল তৈরির কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বেতন না পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষক মানসিক চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত হতাশায় ভুগছেন বলেও জানান তাঁরা।

জরুরি বৈঠক হয়েছে, বকেয়াসহ বেতন পাবেন—মহাপরিচালক

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী দৈনিক শিল্পবাংলাকে বলেন, “বিষয়টি সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুব শিগগিরই সমস্যাটি সমাধান করা হবে। এমপিওভুক্ত হলে এই শিক্ষকরা তাঁদের যোগদানের সময় থেকেই সম্পূর্ণ বকেয়া বেতন পেয়ে যাবেন।”

মহাপরিচালকের বক্তব্যে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস মিললেও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন বেতন ছাড়া দায়িত্ব পালন করায় তাঁরা আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই শুধু আশ্বাস নয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এমপিও চালু, ইনডেক্স নম্বর প্রদান এবং যোগদানের সময় থেকে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে নিয়মিত পাঠদান করলে তাঁদের এমপিও প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন বেতনহীন অবস্থায় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকা নতুন শিক্ষকদের জন্য এটি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং একটি মানবিক সংকটও।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের প্রত্যাশা, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের এমপিও জট নিরসন করবে। একই সঙ্গে যোগদানের সময় থেকে বকেয়া বেতন নিশ্চিত করে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করবে।

সর্বশেষ খবর

আরও দেখুন
ধর্মীয় অনুভূতি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে কেন আজও প্রাসঙ্গিক লালনের মানবদর্শন?
1

ধর্মীয় অনুভূতি ও সহাবস্থানের প্রশ্নে কেন আজও প্রাসঙ্গিক লালনের মানবদর্শন?

বিশেষ ফিচার | দৈনিক শিল্পবাংলা ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ: বৈষম্য, যুদ্ধ ও জনসেবার সংকটে রাস্তায় মানুষ
2

বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ: বৈষম্য, যুদ্ধ ও জনসেবার সংকটে রাস্তায় মানুষ

বিশ্বসংবাদ | দৈনিক শিল্পবাংলা | ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য
3

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য

১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী সভায় তাঁর সভাপতিত্ব করার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণায় এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। প্রশান্তকুমার পালের রবিজীবনী এবং রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্রের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে ১৯১২ সালের ২৪ মার্চ তিনি কলকাতা ছেড়ে শিলাইদহে যান। ২৮ মার্চ শিলাইদহ থেকে জগদানন্দ রায়কে লেখা তাঁর চিঠির তথ্যও পাওয়া যায়।