প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘কৃষক কার্ড’ পাওয়া যে ব্যক্তিকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বিতর্ক চলছে, সেই কবির হোসেন প্রকৃতই ‘প্রান্তিক কৃষক’ বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসকের অধীনে করা তদন্ত কমিটি যাচাই করে জানতে পেরেছে, কবির হোসেন প্রকৃত অর্থেই কৃষক। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করেছে।”
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার উত্তর তারটিয়া গ্রামের কবির হোসেন প্রান্তিক কৃষক কি না তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংশয় প্রকাশ করা হয়। এ অবস্থায় ‘প্রকৃত সত্য’ উদঘাটনে বুধবার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
“তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, উক্ত প্রতিবেদনে ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী তিনি ‘প্রান্তিক কৃষক’ হিসেবে কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।”
নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব কৃষক ০.৫ একরের কম জমির মালিক, তারা প্রান্তিক কৃষক। তদন্ত কমিটি কী তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে কবির হোসেনকে ‘কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য’ বলেছে, সেই ব্যাখ্যা চিঠিতে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
পহেলা বৈশাখে বাইশ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠিয়ে টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে সরকারপ্রধান ১৫ জন কিষাণ-কিষাণির হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেন।
তাদের একজন কবির হোসেন ওই অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতাও করেন। পরে সোশাল মিডিয়ায় কবিরের বেশ কিছু ছবি ছড়ায়, যাতে তাকে ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এসব ছবিতে দেখা যায়, কবির হোসেন প্রাইভেটকারের ওপর বসে আছেন, সাঁতার কাটছেন সুইমিং পুলে কিংবা দেশের বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। তবে এসব ছবি এআই দিয়ে তৈরি বলে সংবাদমাধ্যম ‘ডিসেন্ট’এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ এর আগে বলেছিলেন, বর্তমানে দেশের ১১ উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং চলছে। এরপর ১৫ উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চলবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তবে আর্থিক সুবিধা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক।




