সম্পূর্ণ নিউজ

প্রতীকী
৭২ দেশের সাইবার অপরাধ দমন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা
আন্তর্জাতিকদৈনিক শিল্পবাংলা ডেস্ক |প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০৯:৪৯ PM
৭২ দেশের সাইবার অপরাধ দমন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা
বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধ যখন লাগামহীন, তখন ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক সাইবার ক্রাইম চুক্তিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ৭২টি দেশ ঐক্যবদ্ধ হলেও ওয়াশিংটনের এই নিরবতা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি যুক্তরাষ্ট্র নজরদারির ভয় পাচ্ছে, নাকি হ্যাকারদের পরোক্ষ সমর্থন দিচ্ছে?
হ্যানয় কনভেনশন ও বৈশ্বিক ঐক্য
দীর্ঘ আলোচনার পর জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সাইবার অপরাধের তথ্য আদান-প্রদান এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। বিশেষ করে আন্তঃদেশীয় সাইবার আক্রমণ ঠেকাতে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন স্বাক্ষর করেনি যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো শক্তিশালী যুক্তি না দিলেও বিশ্লেষকরা তিনটি প্রধান কারণ দেখছেন:
১. নিজেদের নজরদারি বজায় রাখা: যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে যে ডিজিটাল নজরদারি চালায়, এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে সেই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক তদন্তের আওতায় চলে আসতে পারে।
২. অপরাধীদের প্রতি নমনীয়তা: অভিযোগ রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই তাদের স্বার্থে কাজ করা 'প্রক্সি হ্যাকার' বা সাইবার গ্রুপগুলোকে রক্ষা করতে চায়। আন্তর্জাতিক চুক্তি থাকলে তাদের এই সুযোগ কমে যাবে।
৩. তদারকির ভয়: চুক্তির অধীনে সাইবার কার্যক্রমের ওপর যে আন্তর্জাতিক তদারকি (Oversight) প্রস্তাব করা হয়েছে, তা মানতে নারাজ মার্কিন সরকার।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনুপস্থিতি বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলবে। যখন একটি দেশ সাইবার যুদ্ধের ময়দান হিসেবে নিজেকে তৈরি করছে (যেমন গুগলের 'ডিসরাপশন ইউনিট'), তখন আন্তর্জাতিক নীতিমালার বাইরে থাকা তাদের উদ্দেশ্যকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
ফ্যাক্টচেক ও বিশ্লেষণ :
জাতিসংঘের এই সাইবার ক্রাইম ট্রিটি বা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহার বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে বড় বড় টেক কোম্পানিগুলোর ডাটা এক্সেস এবং নিজেদের গোয়েন্দা কার্যক্রমকে রক্ষা করতেই এই পথে হাঁটছে।
DainikShilpabanglaCyberCrimeTreatyUNConventionUSA_PoliticsCyberSecurityInternationalLawHanoiConventionসাইবারনিরাপত্তাআন্তর্জাতিকরাজনীতিফ্যাক্টচেক
আরও খবর

আবারও হুঙ্কার থালাপতির, বললেন তাকে থামানো যাবে না
২৭ জানু
সাইবেরিয়ার বরফে এআই সাম্রাজ্য: বিশ্ববাজার দখলে রাশিয়ার নতুন চাল!
২৬ জানু
৭২ দেশের সাইবার অপরাধ দমন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা
২৬ জানু
আমেরিকানদের টাকায় পুষ্ট হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী!
২৬ জানু
গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগে ইসরায়েলের সমর্থন
২২ জানু
