দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থে যে কোনো সংকট উত্তরণে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করতে বিএনপি সবসময় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাই মিলে কাজ করার জন্য আমরা প্রস্তুত। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমানের ৬৮ বিধিতে আনীত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা, জ্বালানিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন।সংসদে আনীত নোটিশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে সারা দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। পাম্পগুলোয় দীর্ঘ লাইন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মানুষ জ্বালানি পাচ্ছে না। এর ফলে জনজীবনে বহুমাত্রিক সংকট দেখা যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, সারা দেশে যখন জ্বালানির জন্য হাহাকার চলছে, তখন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সংকটের কথা অস্বীকার করে বিভ্রান্তিকর দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের এই বাস্তবতাবিবর্জিত ও অস্বীকারের প্রবণতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে। তাই বর্তমান সংকটের প্রকৃত তথ্য প্রকাশপূর্বক এই সংকট নিরসনে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সমাধান জরুরি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এটাকে সংকট বলতে চাই না। বিরোধীদলীয় নেতা দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের কথা বলেছেন। কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, জ্বালানির কারণে কি বোরো চাষ ব্যাহত হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সহনীয় মাত্রায় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদি সংকটই হতো, তবে কি কোনো মিল-ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়েছে? চাষাবাদ, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য তো সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে। তাহলে সংকট কোথায়?
সর্বশেষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, আমি প্রথমেই বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় সব সংসদ সদস্যবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আমরা এতক্ষণ এখানে আলোচনা করলাম, অবশ্যই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সংসদ বহু শহীদের রক্তের ওপরে প্রতিষ্ঠিত। এই সংসদ বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠার আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপরে প্রতিষ্ঠিত। হয়তো আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে নিঃসন্দেহে কেউই আমরা অস্বীকার করছি না, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্ব রাজনীতি, বিশ্ব পরিস্থিতি ও বিশ্ব বাস্তবতা বিবেচনায় সমগ্র বিশ্বের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ভালো যে বিষয়টি আজকের আলোচনা থেকে উঠে এসেছে, সেটি হলো এই সংসদের প্রত্যেক সংসদ সদস্য এবং প্রত্যেক রাজনৈতিক দল অন্তত একটি জায়গায় উপনীত হয়েছে। আমাদের আর যা-ই মতপার্থক্য থাকুক না কেন, দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে আমাদের কোনো মতপার্থক্য নেই। তিনি আরও বলেন, দেশ এবং দেশের মানুষের কোনো বিষয় যদি আমাদের সামনে কেউ উপস্থাপন করেন, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ কোনো প্রস্তাবনা দেন, আলোচনা করতে চান, পরামর্শ দেন, সুপারিশ দেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় প্রস্তুত সেই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, সবসময় আমরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে এবং সেই প্রস্তাবে আলোচনা করতে রাজি আছি।




