শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

১ কার্তিক, ১৪৩৩◆৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
logo
সব বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে 'মার্কিন ছাড়'-সংক্রান্ত খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

দৈনিক শিল্পবাংলা
দৈনিক শিল্পবাংলা
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৮:৩৪ AM
রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে 'মার্কিন ছাড়'-সংক্রান্ত খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে 'মার্কিন ছাড়'-সংক্রান্ত খবর ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ

“

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের ছাড়ের খবরকে ভিত্তিহীন বলেছে জ্বালানি বিভাগ; এ বিষয়ে কোনো সরকারি তথ্য বা অনুমোদন নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের ছাড় দিয়েছে—এমন প্রচারিত খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিভাগটি বলেছে, এ ধরনের সংবাদ তাদের অনুমোদিত কোনো তথ্য, নিশ্চিতকরণ বা মন্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৭ এপ্রিল বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় বাংলাদেশের জন্য রাশিয়ান জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৬০ দিনের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা তাদের নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিভাগের কোনো অনুমোদিত কর্মকর্তা কোনো গণমাধ্যমকে তথ্য দেননি।

বিভাগটি আরও জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত কথিত ৬০ দিনের ছাড় অথবা রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কেও তারা কোনো সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমকে কোনো তথ্য দেয়নি। একই সঙ্গে রাশিয়ান জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ছাড়, কিংবা বাংলাদেশ কর্তৃক ১০ লাখ টন ডিজেল কেনার কোনো প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো সরকারি, হালনাগাদ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

এই স্পষ্টীকরণ এমন এক সময়ে এলো, যখন তার আগের দিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন ৬০ দিনের ছাড় পেয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।

তবে নতুন অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট জ্বালানি দপ্তর অন্তত এখন পর্যন্ত এমন কোনো ছাড়ের বিষয়ে নিজেদের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য থাকার কথা স্বীকার করছে না। ফলে জ্বালানি আমদানিকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই আলোচনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে—আসলেই কি কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক অগ্রগতি হয়েছিল, নাকি তা ছিল আগাম বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর দাঁড়ানো প্রচার।

এদিকে এর আগে ১ এপ্রিল সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে। অর্থাৎ, ‘ছাড় পাওয়া গেছে’—এমন দাবির আগে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ছাড় চাওয়া হয়েছে’—এই অবস্থানটিই প্রকাশ্যে এসেছিল। নতুন ব্যাখ্যা সেই পার্থক্যটিকেই আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক মূল্যচাপ এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ বিকল্প উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি আমদানির পথ খুঁজছে—এ কথা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কিন্তু সর্বশেষ সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাশিয়ান জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের ছাড় পাওয়ার খবরকে এখন আর নিশ্চিত বা সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট বিভাগ এটিকে অনুমোদনহীন ও ভিত্তিহীন তথ্যপ্রচার বলেই চিহ্নিত করেছে।

সব মিলিয়ে নতুন এই ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে, জ্বালানি আমদানি নিয়ে সরকারি অবস্থান, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং জনসমক্ষে আসা তথ্য—এই তিনের মধ্যে ব্যবধান থাকলে তা বাজার, নীতি-আলোচনা এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ফলে রাশিয়ান জ্বালানি, মার্কিন ছাড় এবং বাংলাদেশের আমদানি পরিকল্পনা নিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চূড়ান্ত সরকারি অবস্থান কোনটি, এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে কখন ও কীভাবে জানানো হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর

আরও দেখুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য
1

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? ঐতিহাসিক দলিলে ভিন্ন তথ্য

১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী সভায় তাঁর সভাপতিত্ব করার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে ঐতিহাসিক দলিল ও গবেষণায় এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। প্রশান্তকুমার পালের রবিজীবনী এবং রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্রের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে ১৯১২ সালের ২৪ মার্চ তিনি কলকাতা ছেড়ে শিলাইদহে যান। ২৮ মার্চ শিলাইদহ থেকে জগদানন্দ রায়কে লেখা তাঁর চিঠির তথ্যও পাওয়া যায়।

লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
2

লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

নেব্রাস্কার এক সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোকে ‘ধ্বংস’ করতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পর ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা তীব্র সমালোচনা করেন। গ্যাভিন নিউসমও এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানান।

এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন সংস্থা গঠনের পক্ষে শিফ, ট্রাম্পের স্বেচ্ছা প্রতিশ্রুতিকে অর্থহীন বললেন
3

এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন সংস্থা গঠনের পক্ষে শিফ, ট্রাম্পের স্বেচ্ছা প্রতিশ্রুতিকে অর্থহীন বললেন

সেনেটর অ্যাডাম শিফ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসের আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার। তিনি নতুন একটি সংস্থা গঠনের সম্ভাবনার কথাও তুলেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রযুক্তি নির্বাহীদের সঙ্গে স্বেচ্ছা এআই নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে তিনি অর্থহীন বলে সমালোচনা করেন।